মা শব্দটি খুবই ছোট, কিন্তু মধুরতম।
মায়ের চেয়ে মধুর ডাক পৃথিবীতে আর দ্বিতীয়টি নেই। পৃথিবীতে সবচেয়ে
গভীরতম সম্পর্ক মা। এই ছোট শব্দটি
আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় স্নেহ মমতা আর গভীর ভালোবাসার কথা। আমাদের জীবনের গভীর সংকটকালে যাকে প্রথম স্মরণ করি তিনি হচ্ছেন পরম মমতাময়ী মা। তাই মাযের চেয়ে বড় কিছু পৃথিবীতে নেই। জন্মের পর শিশুর প্রথম ভাষা- মা। মা উচ্চারণের সাথে সাথে হৃদয়ে যে আবেগ ও অনুভূতির সৃষ্টি হয়, তাতে অনাবিল সুখের প্রশান্তি নেমে আসে। মা শিশুর সার্বজনীন ভাষা। আমরা মায়ের কাছেই প্রথম কথা বলা শিখি।
মাকে শ্রদ্ধা ও ভালবাসা জানানোর নির্দিষ্ট কোনো দিন নেই। মায়ের প্রতি ভালোবাসা প্রতিটি মুহূর্তের। তারপরও বিশ্বের সকল মানুষ যাতে এক সঙ্গে মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পারে সে জন্য মে মাসের দ্বিতীয় রোববারকে আন্তর্জাতিক মা দিবস হিসাবে ঘোষণা করা হয়। পশ্চিমের দেশগুলোতে মা দিবসটি মে মাসের দ্বিতীয় রোববারে উদযাপন করা হয়। আর বাংলাদেশে জাতীয় পর্যায়ে এ দিবসে তেমন কর্মসূচি না থাকলেও কিছু কিছু সংস্থা, সংগঠন ও ব্যক্তি নানা আয়োজনের মধ্যে দিয়ে দিবসটি পালন করে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ দিবসটি বিভিন্ন সময়ে চলে এসেছে। ১৯১১ সাল থেকে এই দিনটি পালন হয়ে আসছে ‘মা’ দিবস হিসেবে। সর্ব প্রথম ১৯১১ সালের মে মাসের দ্বিতীয় রোববার আমেরিকা জুড়ে পালিত হয় প্রথম ‘মা দিবস’। সে সময় আমেরিকায় মায়েদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে ‘মাদারিং সানডে’ নামে একটি বিশেষ দিন উদযাপন করা হতো।
এরপর আমেরিকার সীমানা ছাড়িয়ে মা দিবসটি সর্বজনীন করে তোলার লক্ষ্যে এগিয়ে আসেন জুলিয়া ওয়ার্ড নামের এক আমেরিকান। মা দিবসকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেয়ার লক্ষ্যে ১৮৭২ সালে জুলিয়া ওয়ার্ড ব্যাপক লেখালেখি শুরু করেন। এরপর ১৮৭২ সালের মে মাসের দ্বিতীয় রোববার নিজের মায়ের মৃত্যুবার্ষিকীতে জুলিয়া ওয়ার্ড নিজে ‘মা দিবস’ পালন করেন।
১৯১৪ সালে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট উর্ডো উইলসন দিবসটিকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেন। এরপর দেশে দেশে মা দিবসটি পালনের রেওয়াজ ছড়িয়ে পড়ে।
ইতিহাস থেকে জানা যায়, ‘মা দিবসের’ প্রচলন শুরু হয় প্রথম প্রাচীন গ্রিসে। সেখানে প্রতি বসন্তকালে একটি দিন দেবতাদের মা ‘রিয়া’ যিনি ক্রোনাসের সহধর্মিনী তার উদ্দেশ্য উদযাপন করা হতো। বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন সময় ‘মা দিবস’ পালিত হতো বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে। রোমানরা পালন করতেন ১৫ মার্চ থেকে ১৮ মার্চের মধ্যে। তারা দিনটিকে উৎসর্গ করেছিলেন ‘জুনো’র প্রতি। ষোড়শ শতাব্দী থেকে এই দিনটি যুক্তরাজ্যেও উদযাপন করা হতো ‘মাদারিং সানডে’ হিসেবে। ইস্টার সানডের ঠিক তিন সপ্তাহ আগের রোববারে এটি পালন করেন তারা। নরওয়েতে ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় রোববারে, সৌদি আরব, বাহরাইন, মিশর, লেবাননে বসন্তের প্রথম দিন অর্থাৎ ২১ মার্চে এই দিনটি উদযাপিত হয়। কিন্তু বিশ্ব জুড়ে এই যে বনার্ঢ্য ‘মা দিবস’ এর উদযাপন, এটি আসে মূলত আমেরিকানদের থেকে। ১৮৭০ সালে সমাজসেবী জুলিয়া ওয়ার্ড হো আমেরিকার নারীদেরকে যুদ্ধের বিরুদ্ধে সংগঠিত হওয়ার আহ্বান জানান। সে সাথে এই দিবসটিকে স্বীকৃতি দেয়ার জন্য রাষ্ট্রের কাছে প্রচুর লেখালেখি করেন।
তার ঘোষণাপত্রে লেখা ছিল, As men have often forsaken the plough and the anvil at the summons of war, Let women now leave all that may be left of home For a great and earnest day of counsel. Let them meet first, as women, to bewail and commemorate the dead.
যদিও এটা হো’র মৌলিক পরিকল্পনা ছিল না, তিনি ১৮৫৮ সালে শান্তিকর্মী ।অ্যান জার্ভিসের শুরু করা প্রচেষ্টাকেই সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। অ্যান জার্ভিস যুদ্ধ বিধ্বস্ত আমেরিকার নারীদের নিয়ে পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যরক্ষার প্রয়োজনীয়তা ও উপকারিতা নিয়ে প্রচার ও কাজ শুরু করেছিলেন। ১৮৬৮ সালে তিনি নারীদের সংঘবদ্ধ করেন। অ্যান জার্ভিস দিনটির সরকারি অনুমোদন পাওয়ার জন্য বিভিন্নধরনের চেষ্টা চালাতে থাকেন, কিন্তু সফলকাম হতে পারেননি।
তার মৃত্যুর পর তার মেয়ে অ্যানা জার্ভিস মায়ের অসমাপ্ত স্বপ্ন পূরণের কাজে হাত দেন। তিনি চেষ্টা করতে লাগলেন একটি বিশেষ দিন ঠিক করে ‘মা দিবস’টি উদযাপন করার জন্য। সেই লক্ষ্যেই ১৯০৮ সালের ১০ মে তিনি পশ্চিম ভার্জিনিয়ার গ্রাফিটন শহরের সেই চার্চে, যেখানে তার মা অ্যান জার্ভিস রোববারে পড়াতেন সেখানে প্রথমবারের মতো দিনটি উদযাপন করলেন। এরপর থেকেই আস্তে আস্তে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি বিস্তার হতে থাকে চারদিকে এবং এক সময় আমেরিকার ৪৫টি অঙ্গরাজ্যে এই দিনটি পালন হতে থাকে।
১৯১২ সালে সর্বপ্রথম এইদিনকে স্বীকৃতি দিয়ে সরকারিছুটি ঘোষণা করা হয় আমেরিকার কিছু কিছু অঙ্গরাজ্যে। তৎকালীন প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন ১৯১৪ সালে দেশব্যাপী সরকারি ছুটি ও জাতীয় উৎসবের মর্যাদা দেন এই দিনটিকে। সে সমস্ত মায়েরদের সম্মানে দেশব্যাপী পতাকা অর্ধনিমিত রাখা হতো যাদের পুত্ররা যুদ্ধে প্রাণ দিয়েছেন। এরপর ১৯২২ সালে ফ্রান্সে প্রথম মা দিবস শুরু হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মান ১৯৪১ সালে জাঁকজমকভাবে মা দিবস পালন করে।
এর পর থেকে আজকের মতো ব্যবসায়িক আঙ্গিকে ‘মা দিবসে’র উদযাপন শুরু হয়েছে। পরবর্তী সময়ে ১৯৫০ সালে এ দিবসকে রাষ্ট্রীয় উৎসবের মর্যাদা দেয়া হয়। মায়েদের জন্য প্রতিবছর ৩১ মে সুইডেন এবং মে মাসের শেষে ইংল্যান্ডে, ১৪ মে আমেরিকা, ২৬ মে পোলান্ড এবং মে মাসের শেষ রবিবার জার্মানিতে মা দিবস পালিত হয়।
জন্মের পর শিশুর প্রথম ভাষা- মা। মা উচ্চারণের সাথে সাথে হৃদয়ে যে আবেগ ও অনুভূতি সৃষ্টি হয়, তাতে অনাবিল সুখের প্রশান্তি নেমে আসে। মা শিশুর সার্বজনীন ভাষা। পরিবারের সুখ-সুবিধার প্রতি দৃষ্টি রাখতে যেয়ে, প্রতিদিন নিজের আরাম নষ্ট করে, নিজেকে বিলিয়ে দিয়ে, সন্তানদের পৃথিবীতে চলার যোগ্য তৈরি করে দেন যিনি, তিনি মা। সেই ‘মা’ কে বছরে একটি দিনও যদি আনন্দ দিতে পারি, জানাতে পারি বিশেষভাবে তোমার তুলনা তুমিই ‘মা’, সেটাই কম কিসে? হয়তো বিশ্বের মা ভক্ত মানুষগুলো দিবসটির তাৎপর্য খুজে পায় বলেই এ দিবস নিয়ে এত আয়োজন।
মা তুমি শুধু যে তোমার তুলনা
মা তুমি আমার ভালবাসার উপমা
মা তুমি আমার জীবন মরণ
মা তুমি আমার সত্য কথন।।
মা তুমি বিনা আমি বাঁচতে চাই না
মা তুমি বিনা আমার একটি প্রহর যেন আসে না
মা তুমি বিনা আমি হাসতে চাই না
মা তুমি বিনা আমি হাঁটতে পারি না।।
মা এমন শব্দ যাকে আশ্রয় করে আমরা দুনিয়ার সব ভুলে যেতে পারি। মা থাকলে বিশ্ব জয় করতে পারি। দোয়া করি সকল মায়ের জন্য।। ভালোবাসা দিয়ে যে মা বড় করেছেন তার প্রতিদান দেবার ক্ষমতা কারো নেই। আসুন একটি দিন নয়, ৩৬৫ দিনই হোক আমাদের মায়ের জন্য ভালোবাসার প্রকাশ।
আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় স্নেহ মমতা আর গভীর ভালোবাসার কথা। আমাদের জীবনের গভীর সংকটকালে যাকে প্রথম স্মরণ করি তিনি হচ্ছেন পরম মমতাময়ী মা। তাই মাযের চেয়ে বড় কিছু পৃথিবীতে নেই। জন্মের পর শিশুর প্রথম ভাষা- মা। মা উচ্চারণের সাথে সাথে হৃদয়ে যে আবেগ ও অনুভূতির সৃষ্টি হয়, তাতে অনাবিল সুখের প্রশান্তি নেমে আসে। মা শিশুর সার্বজনীন ভাষা। আমরা মায়ের কাছেই প্রথম কথা বলা শিখি।
মা প্রথম কথা বলা শেখান বলেই মায়ের ভাষা হয় মাতৃভাষা। সন্তানের প্রতি
মায়ের ভালোবাসা সহজাত গুণ। এই ভালোবাসার কারণেই সুন্দর সৃষ্টির ধারা
প্রবাহমান। মা হচ্ছেন মমতা-নিরাপত্তা-অস্তিত্ব, নিশ্চয়তা ও আশ্রয়। মা
সন্তানের অভিভাবক, পরিচালক, ফিলোসফার, শ্রেষ্ঠ শিক্ষক ও বড় বন্ধু।
সন্তানের প্রতি মায়ের এই তীব্র মমতার ব্যাখ্যায় বিজ্ঞান বলে, মায়ের
দুধে এক প্রকার রাসায়নিক যৌগিক পদার্থ আছে-যা সন্তানের দেহে প্রবেশ করলে
মা ও সন্তানের মধ্যে চুম্বক প্রীতি ও সৌহাদ্যেরে নিবিড় বন্ধন সৃষ্টি হয়।
মায়ের দেহে নিউট্রোপেট্রিক রাসায়নিক পদার্থ থাকায় মায়ের মনের মাঝে
সন্তানের জন্য মমতা জন্ম নেয়, মায়ের ভালোবাসার ক্ষমতা বিজ্ঞানের
মাপকাঠিতে নির্ণয় করা সম্ভব নয়। পৃথিবীতে আসার আগে সন্তান মায়ের গর্ভে
তিলে তিলে বড় হয়। মায়ের দেহ থেকেই খাদ্য গ্রহণ করে।মাকে শ্রদ্ধা ও ভালবাসা জানানোর নির্দিষ্ট কোনো দিন নেই। মায়ের প্রতি ভালোবাসা প্রতিটি মুহূর্তের। তারপরও বিশ্বের সকল মানুষ যাতে এক সঙ্গে মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পারে সে জন্য মে মাসের দ্বিতীয় রোববারকে আন্তর্জাতিক মা দিবস হিসাবে ঘোষণা করা হয়। পশ্চিমের দেশগুলোতে মা দিবসটি মে মাসের দ্বিতীয় রোববারে উদযাপন করা হয়। আর বাংলাদেশে জাতীয় পর্যায়ে এ দিবসে তেমন কর্মসূচি না থাকলেও কিছু কিছু সংস্থা, সংগঠন ও ব্যক্তি নানা আয়োজনের মধ্যে দিয়ে দিবসটি পালন করে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ দিবসটি বিভিন্ন সময়ে চলে এসেছে। ১৯১১ সাল থেকে এই দিনটি পালন হয়ে আসছে ‘মা’ দিবস হিসেবে। সর্ব প্রথম ১৯১১ সালের মে মাসের দ্বিতীয় রোববার আমেরিকা জুড়ে পালিত হয় প্রথম ‘মা দিবস’। সে সময় আমেরিকায় মায়েদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে ‘মাদারিং সানডে’ নামে একটি বিশেষ দিন উদযাপন করা হতো।
এরপর আমেরিকার সীমানা ছাড়িয়ে মা দিবসটি সর্বজনীন করে তোলার লক্ষ্যে এগিয়ে আসেন জুলিয়া ওয়ার্ড নামের এক আমেরিকান। মা দিবসকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেয়ার লক্ষ্যে ১৮৭২ সালে জুলিয়া ওয়ার্ড ব্যাপক লেখালেখি শুরু করেন। এরপর ১৮৭২ সালের মে মাসের দ্বিতীয় রোববার নিজের মায়ের মৃত্যুবার্ষিকীতে জুলিয়া ওয়ার্ড নিজে ‘মা দিবস’ পালন করেন।
১৯১৪ সালে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট উর্ডো উইলসন দিবসটিকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেন। এরপর দেশে দেশে মা দিবসটি পালনের রেওয়াজ ছড়িয়ে পড়ে।
ইতিহাস থেকে জানা যায়, ‘মা দিবসের’ প্রচলন শুরু হয় প্রথম প্রাচীন গ্রিসে। সেখানে প্রতি বসন্তকালে একটি দিন দেবতাদের মা ‘রিয়া’ যিনি ক্রোনাসের সহধর্মিনী তার উদ্দেশ্য উদযাপন করা হতো। বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন সময় ‘মা দিবস’ পালিত হতো বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে। রোমানরা পালন করতেন ১৫ মার্চ থেকে ১৮ মার্চের মধ্যে। তারা দিনটিকে উৎসর্গ করেছিলেন ‘জুনো’র প্রতি। ষোড়শ শতাব্দী থেকে এই দিনটি যুক্তরাজ্যেও উদযাপন করা হতো ‘মাদারিং সানডে’ হিসেবে। ইস্টার সানডের ঠিক তিন সপ্তাহ আগের রোববারে এটি পালন করেন তারা। নরওয়েতে ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় রোববারে, সৌদি আরব, বাহরাইন, মিশর, লেবাননে বসন্তের প্রথম দিন অর্থাৎ ২১ মার্চে এই দিনটি উদযাপিত হয়। কিন্তু বিশ্ব জুড়ে এই যে বনার্ঢ্য ‘মা দিবস’ এর উদযাপন, এটি আসে মূলত আমেরিকানদের থেকে। ১৮৭০ সালে সমাজসেবী জুলিয়া ওয়ার্ড হো আমেরিকার নারীদেরকে যুদ্ধের বিরুদ্ধে সংগঠিত হওয়ার আহ্বান জানান। সে সাথে এই দিবসটিকে স্বীকৃতি দেয়ার জন্য রাষ্ট্রের কাছে প্রচুর লেখালেখি করেন।
তার ঘোষণাপত্রে লেখা ছিল, As men have often forsaken the plough and the anvil at the summons of war, Let women now leave all that may be left of home For a great and earnest day of counsel. Let them meet first, as women, to bewail and commemorate the dead.
যদিও এটা হো’র মৌলিক পরিকল্পনা ছিল না, তিনি ১৮৫৮ সালে শান্তিকর্মী ।অ্যান জার্ভিসের শুরু করা প্রচেষ্টাকেই সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। অ্যান জার্ভিস যুদ্ধ বিধ্বস্ত আমেরিকার নারীদের নিয়ে পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যরক্ষার প্রয়োজনীয়তা ও উপকারিতা নিয়ে প্রচার ও কাজ শুরু করেছিলেন। ১৮৬৮ সালে তিনি নারীদের সংঘবদ্ধ করেন। অ্যান জার্ভিস দিনটির সরকারি অনুমোদন পাওয়ার জন্য বিভিন্নধরনের চেষ্টা চালাতে থাকেন, কিন্তু সফলকাম হতে পারেননি।
তার মৃত্যুর পর তার মেয়ে অ্যানা জার্ভিস মায়ের অসমাপ্ত স্বপ্ন পূরণের কাজে হাত দেন। তিনি চেষ্টা করতে লাগলেন একটি বিশেষ দিন ঠিক করে ‘মা দিবস’টি উদযাপন করার জন্য। সেই লক্ষ্যেই ১৯০৮ সালের ১০ মে তিনি পশ্চিম ভার্জিনিয়ার গ্রাফিটন শহরের সেই চার্চে, যেখানে তার মা অ্যান জার্ভিস রোববারে পড়াতেন সেখানে প্রথমবারের মতো দিনটি উদযাপন করলেন। এরপর থেকেই আস্তে আস্তে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি বিস্তার হতে থাকে চারদিকে এবং এক সময় আমেরিকার ৪৫টি অঙ্গরাজ্যে এই দিনটি পালন হতে থাকে।
১৯১২ সালে সর্বপ্রথম এইদিনকে স্বীকৃতি দিয়ে সরকারিছুটি ঘোষণা করা হয় আমেরিকার কিছু কিছু অঙ্গরাজ্যে। তৎকালীন প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন ১৯১৪ সালে দেশব্যাপী সরকারি ছুটি ও জাতীয় উৎসবের মর্যাদা দেন এই দিনটিকে। সে সমস্ত মায়েরদের সম্মানে দেশব্যাপী পতাকা অর্ধনিমিত রাখা হতো যাদের পুত্ররা যুদ্ধে প্রাণ দিয়েছেন। এরপর ১৯২২ সালে ফ্রান্সে প্রথম মা দিবস শুরু হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মান ১৯৪১ সালে জাঁকজমকভাবে মা দিবস পালন করে।
এর পর থেকে আজকের মতো ব্যবসায়িক আঙ্গিকে ‘মা দিবসে’র উদযাপন শুরু হয়েছে। পরবর্তী সময়ে ১৯৫০ সালে এ দিবসকে রাষ্ট্রীয় উৎসবের মর্যাদা দেয়া হয়। মায়েদের জন্য প্রতিবছর ৩১ মে সুইডেন এবং মে মাসের শেষে ইংল্যান্ডে, ১৪ মে আমেরিকা, ২৬ মে পোলান্ড এবং মে মাসের শেষ রবিবার জার্মানিতে মা দিবস পালিত হয়।
জন্মের পর শিশুর প্রথম ভাষা- মা। মা উচ্চারণের সাথে সাথে হৃদয়ে যে আবেগ ও অনুভূতি সৃষ্টি হয়, তাতে অনাবিল সুখের প্রশান্তি নেমে আসে। মা শিশুর সার্বজনীন ভাষা। পরিবারের সুখ-সুবিধার প্রতি দৃষ্টি রাখতে যেয়ে, প্রতিদিন নিজের আরাম নষ্ট করে, নিজেকে বিলিয়ে দিয়ে, সন্তানদের পৃথিবীতে চলার যোগ্য তৈরি করে দেন যিনি, তিনি মা। সেই ‘মা’ কে বছরে একটি দিনও যদি আনন্দ দিতে পারি, জানাতে পারি বিশেষভাবে তোমার তুলনা তুমিই ‘মা’, সেটাই কম কিসে? হয়তো বিশ্বের মা ভক্ত মানুষগুলো দিবসটির তাৎপর্য খুজে পায় বলেই এ দিবস নিয়ে এত আয়োজন।
মা তুমি শুধু যে তোমার তুলনা
মা তুমি আমার ভালবাসার উপমা
মা তুমি আমার জীবন মরণ
মা তুমি আমার সত্য কথন।।
মা তুমি বিনা আমি বাঁচতে চাই না
মা তুমি বিনা আমার একটি প্রহর যেন আসে না
মা তুমি বিনা আমি হাসতে চাই না
মা তুমি বিনা আমি হাঁটতে পারি না।।
মা এমন শব্দ যাকে আশ্রয় করে আমরা দুনিয়ার সব ভুলে যেতে পারি। মা থাকলে বিশ্ব জয় করতে পারি। দোয়া করি সকল মায়ের জন্য।। ভালোবাসা দিয়ে যে মা বড় করেছেন তার প্রতিদান দেবার ক্ষমতা কারো নেই। আসুন একটি দিন নয়, ৩৬৫ দিনই হোক আমাদের মায়ের জন্য ভালোবাসার প্রকাশ।
No comments:
Post a Comment